Pran All Time

বান্দরবানে পাহাড়ধস, একজনের লাশ উদ্ধার

বান্দরবানে পাহাড়ধস, একজনের লাশ উদ্ধার

UNB NEWS

সোমবার ২৪ জুলাই, ২০১৭ ০৭:২৮:৫৪ পিএম

বান্দরবানে পাহাড়ধস, একজনের লাশ উদ্ধার

পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত বান্দরবান-রুমা সড়কের ২৫ কিলোমিটারের দলিয়নপাড়া এলাকা। এখানে ধসে নিহত হয়েছেন একজন। ছবিটি আজ দুপুরে তোলা। ছবি: প্রথম আলোবান্দরবান-রুমা সড়কের ২৫ কিলোমিটারের দলিয়ানপাড়া এলাকায় আজ সকালে পাহাড়ধসে চাপা পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও পাঁচ-ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন। ইতিমধ্যে আহত দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। 

ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে অবিরাম ভারী বৃষ্টি ও পাহাড় থেকে ভয়ংকরভাবে নেমে আসা মাটির ঢলের ঝুঁকির কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে বলে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ১২ ও ১৩ জুনের ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এবং নতুন করে তৈরি করা সড়কে গত শনিবার রাতে আবারও পাহাড় ধসে পড়ে। এতে সড়কটিতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আজ সকালে সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসগুলো পাহাড়ধস এলাকায় এসে আটকে পড়ে। ধসে পড়া দুই অংশের মধ্যে হেঁটে গাড়ি বদলের সময় প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটির তোড়ে যাত্রীরা একশ ফুট নিচে পড়ে যায় । 
সরেজমিন দেখা যায়, খাড়া পাহাড়টি ধসে অবিরাম ধারায় পানি মিশ্রিত মাটির স্রোত নেমে আসছে। সেখানে কর্মরত সেনাবাহিনীর ১৯ প্রকৌশল নির্মাণ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর ইফতেখার শাহরিয়ার জানিয়েছেন, রাতেই ভারী বৃষ্টিতে পুনর্নির্মিত সড়কে পাহাড়টি ধসে সড়কটি বন্ধ হয়েছে। বৃষ্টিতে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাঁরা বন্ধ রেখেছিলেন। দুর্ঘটনার পর দ্রুত সেখানে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন। 
ঘটনার সময় সেখানে থাকা গাড়িচালক মো. ইলিয়াস বলেন, রুমার বাসের যাত্রীরা পাহাড়ের বিপজ্জনক ভাঙা অংশ পার হচ্ছিলেন। বান্দরবানের বাসের যাত্রীরা রুমার বাসে ওঠার জন্য যাওয়ার সময় মাটির স্রোত এসে তাঁদের ওপর পড়ে। ইলিয়াস বলেন, তিনজন নারীসহ আটজন ধসের কবলে পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে অংথোয়াই মারমা ও রুমা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক চিত্তরঞ্জন চাকমাসহ তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যরা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। 
পাহাড়ধস থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়া রুমা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলাল হোসেন বলেছেন, আহত শিক্ষক চিত্তরঞ্জন চাকমা তাঁর কয়েক ফুট পেছনে ছিলেন। মাটির তোড়ে ভেসে যাওয়ার সময় তিনি আট-নয়জনকে দেখেছেন। 
ঘটনাস্থলে থাকা রুমা উপজেলা চেয়ারম্যান অংথোয়াইচিং মারমা বলেছেন, বিকেলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে চিং মেহ্লা মারমা (১৮) এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর বাড়ি রুমার পাইন্দু ইউনিয়নের মংশৈপ্রু পাড়ায়। অংথোয়াইচিং বলেন, বান্দরবান থেকে রুমাগামী বাসযাত্রীরা অধিকাংশই রুমার বাসিন্দা। সম্ভাব্য নিখোঁজ সাতজন। তাঁদের মধ্যে চারজনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন চিংমে সিং মারমা (ছাত্রী), পরিবার পরিকল্পনার মাঠকর্মী মুন্নী বড়ুয়া, ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার রবিউল হোসেন, গৌতম নন্দি (তিনি কোথায় চাকরি করেন জানা যায়নি)। বাকি নিখোঁজ তিনজনের নাম পাওয়া যায়নি। 
দুপুরে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, বান্দরবানের ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল যুবায়ের সালেহীন, জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 
সেনাবাহিনীর ৬৯ পদাতিক ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল যুবায়ের সালেহীন ঘটনাস্থলে বলেছেন, মোট আটজন পাহাড়ধসের কবলে পড়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের থেকে তাঁরা তথ্য পেয়েছেন। সেখান থেকে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিক উল্লাহ বলেছেন একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও পাঁচ-ছয়জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।