Pran All Time

কুমিল্লায় মুমূর্ষ 'যুবরাজের' পাশে 'ভাগনে'

UNB NEWS

মঙ্গলবার ৩১ অক্টোবর, ২০১৭ ০৬:২৭:৪২ পিএম

কুমিল্লায় মুমূর্ষ 'যুবরাজের' পাশে 'ভাগনে'

খাইরুল আহসান মানিক
কুমিল্লা, ৩১ অক্টোবর (ইউএনবি)- 'মামা' অনেকদিন ধরে শয্যাশায়ী। খাবার মুখে তুলছে না সে। তবে দয়াবান 'ভাগনে' ছেড়ে পালিয়ে যায়নি মামাকে। কথা হচ্ছিল, কুমিল্লা চিড়িয়াখানার যুবরাজ নামের মুমূর্ষু একটি সিংহের দিন পার করা এবং বিড়ালের সঙ্গ দেয়া নিয়ে।

চিড়িয়াখানায় যুবরাজকে দেখতে গিয়ে মন খারাপ করেন দর্শনার্থীরা। কেউ কেউ তার মুমূর্ষু অবস্থার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ফেসবুকে চিড়িয়াখানার ঠিকাদার ও জেলা পরিষদকে তুলাধুনো করছেন অনেকে।

সালমান নামে একজন ফেসবুকে সিংহটির ছবি পোস্ট করে মন্তব্য করেছেন, যারা যুবরাজের খাবার খেয়ে ফেলেছে; তাদের বিচার চাই। তাদেরও এভাবে খাঁচায় বন্দী করে রাখা হোক।

কামাল হোসেন নামে আরেকজন লিখেছেন, ঠিকাদার জেলা পরিষদকে খাওয়ালে বিল পাবে, সিংহকে খাওয়ালে বিল পাবে না।

চিড়িয়াখানায় দেখা যায়, অল্প কয়েকটি পশু-পাখি আছে। অধিকাংশ খাঁচা শূন্য পড়ে আছে। ভেঙ্গে গেছে কয়েকটি খাঁচা। অনেক খাঁচা শূন্য পড়ে আছে। সব মিলিয়ে ৮টি বানর, ৩টি বন মোরগ, ৩টি হরিণ রয়েছে। একমাত্র কঙ্কালসার সিংহ ‘যুবরাজ’ মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। নেই দর্শনার্থীর ভিড়। অনেকটা পরিত্যক্ত বাড়ির মতো।  

জানা গেছে, অল্প বৃষ্টিতে চিড়িয়াখানা ডুবে যায়। এতে দিন দিন দশনার্র্থী কমছে। গত ৫ বছর ধরে দুরাবস্থা এটির।

সচেতন নাগরিক কমিটির কুমিল্লার সাবেক সভাপতি আলী আকবর মাসুম বলেন, কুমিল্লার মতো বড় শহরের চিড়িয়াখানার এই বেহালদশা দুঃখজনক। এটি সংস্কার করে ও পশু-পাখি দিয়ে সাজানো সময়ের দাবি।

ইজারাদারদের একজন রায়হান হাসানাত বলেন, চিড়িয়াখানার পশু-পাখির খাবারসহ সব মিলিয়ে বছরে ১৯ লাখ টাকা খরচ হয়। কিন্তু এখানে পশু-পাখি কম থাকায় দর্শনার্থীরা কম আসে। এতে আমাদের লোকসান গুনতে হবে।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বলেন, সিংহটি মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। চিকিৎসক এনে তার চিকিৎসা করিয়েছি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একটি সিংহ সাধারণত ১৪ বছর বাঁচে। যুবরাজের বর্তমান বয়স ১৮ বছর। এটি মূলত তার বাড়তি জীবনকাল অতিবাহিত করছে।

তিনি আরও বলেন, চিড়িয়াখানার মাটি ভরাট করেছি, দেওয়াল নির্মাণ চলছে। কিছু দিনের মধ্যে কিছু পশু-পাখি আনা হবে। উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

উল্লেখ্য, ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুরি মৌজায় জেলা প্রশাসকের বাংলোর পাশে সরকারি ১০.১৫ একর জমিতে গড়ে উঠে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন।