রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তাদের মানবাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।

">
Pran All Time

জাতিসংঘ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে: অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

UNB NEWS

মঙ্গলবার ০৮ মে, ২০১৮ ০৮:১৮:৫৪ পিএম

জাতিসংঘ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে: অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

ঢাকা, ০৮ মে (ইউএনবি)- রোহিঙ্গা সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সংহতি জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তাদের মানবাধিকার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁও মুক্তযুদ্ধ জাদুঘরে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তারা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো পর্যাপ্ত উদ্যোগ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।

কসমস বুকস এবং কসমস ফাউন্ডেশন-এর যৌথ উদ্যোগে আর্ট অ্যাগেইনস্ট জেনোসাইড নামে বইটি প্রকাশ করা হয়।

কসমস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এনায়েতউল্লাহ খান সম্পাদিত বইটিতে খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদসহ বাংলাদেশি শিল্পীদের ২৯টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

আর্ট অ্যাগেইনস্ট জেনোসাইড বইটিতে রোহিঙ্গা সঙ্কট এবং তাদের জীবন-ভাগ্য নিয়ে শৈল্পিক প্রতিবাদ তুলে ধরা হয়েছে। কসমস বুকস বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে প্রথম এ ধরনের বাস্তবধর্মী বই প্রকাশ করল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে জাতিসংঘ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।

তাঁর দাবি, মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) সম্মানের সাথে ফেরত নেয়ার ব্যাপারে সন্দেহ আছে। এ কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান আরো বলেন, নিবন্ধ এবং শিল্পীদের শিল্পকর্মের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা বর্ণনা থাকায় আর্ট অ্যাগেইনস্ট জেনোসাইড বইটি বর্তমান রোহিঙ্গা সঙ্কটের দলিল হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

শিল্প অনুরাগী এনায়েতউল্লাহ খান বলেন, শিল্প আমাদের কিছু মানবিক প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে কাজ করে। এটা আমাদের মনকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই শিল্পকে সব সময় মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত।

আর্ট অ্যাগেইনস্ট জেনোসাইড বইটি সম্পর্কে তিনি বলেন, বইটি আমাদের শিল্পের শক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে উচ্চতর আদর্শের উন্নতি ঘটানো এবং সন্ত্রাস, গণহত্যা, অন্যান্য অত্যাচার ও সঙ্কট দমনে উজ্জ্বীবিত হওয়ার প্রেরণা যোগাবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে নিজ অভিজ্ঞতার আলোকে কসমস ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাহার খান বলেন, কেবলমাত্র ঘটনা এবং তথ্য ছাড়াও শিল্পের মাধ্যমে ব্যাপক এই সঙ্কট সম্পর্কে মানুষকে জানানোর জন্য বইটি প্রকাশ করা হয়েছে।

বইটির মাধ্যমে মানুষ রোহিঙ্গাদের প্রকৃত দুঃখ-দুর্দশার চিত্র বুঝতে পারবে এবং তাদের হৃদয়কে নাড়া দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, এটি (রোহিঙ্গা সমস্যা) কেবল রাজনৈতিক বিষয় নয়। এখানে আমাদের অনেক কিছু করার আছে। এমন একটি বই প্রকাশের মতো উদ্যোগ বিশ্ব সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।

বইটিতে যেসব শিল্পীদের চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন- কালিদাস কর্মকার, মাকসুদা ইকবাল নিপা, তানবীর সারওয়ার রানা, নবেন্দো সাহা নবো, প্রদীপ সাহা, আসিফ কাদের সিদ্দিকী,জসিম উদ্দিন, আল আমিন ইসলাম রৌনক, জয়ান্ত মালো, ইমরান উদ্দিন ইমরান, মেরি চাকমা, সঞ্জয় সরকার অক্ষয়, জুয়েল চাকমা, উর্মি হাওলাদার, সাইমুম রেজা এবং অচিন্ত্য সাহা রায়।

উল্লেখিত শিল্পীরা তৈল চিত্রের পাশাপাশি জল রঙ ও কাগজে এক্রাইলিকের ব্যবহারসহ বিভিন্নভাবে তাদের শিল্পকর্ম উপস্থাপন করেছেন। শিল্পকর্মগুলোতে গ্যালারি কসমস এবং কক্সবাজার আর্ট ক্লাবের অবদান রয়েছে।

বইটিতে বিশিষ্ট লেখকদের বেশ কিছু সমৃদ্ধ নিবন্ধের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে আলোকচিত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ৪০টি স্থিরচিত্র স্থান পেয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি মফিদুল হক, আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংগঠন আইওএমর সাবেক এনপিও আসিফ মুনির প্রমুখ।