মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) আওতামুক্ত থাকা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দীর্ঘদিন ধরেই ছিল বিদেশি শ্রমিকদের প্রিয় গন্তব্য। সেই সুযোগ আর থাকছে না। আগামী বছর থেকে দেশ দু’টিতে চাপছে পাঁচ শতাংশ ভ্যাটের বোঝা।

">
Pran All Time

সৌদি আরব ও ইউএইতে প্রবাসীদের ওপর চাপছে ভ্যাটের বোঝা

UNB NEWS

বুধবার ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৩:৩৬:২৯ পিএম

সৌদি আরব ও ইউএইতে প্রবাসীদের ওপর চাপছে ভ্যাটের বোঝা

দুবাই, ২৭ ডিসেম্বর (ইউএনবি)- মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) আওতামুক্ত থাকা সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দীর্ঘদিন ধরেই ছিল বিদেশি শ্রমিকদের প্রিয় গন্তব্য। সেই সুযোগ আর থাকছে না। আগামী বছর থেকে দেশ দু’টিতে চাপছে পাঁচ শতাংশ ভ্যাটের বোঝা।

তিন বছর আগে তেলের মূল্যে ধস নামার কারণে দুর্বল হয়ে যাওয়া রাজস্ব আহরণকে চাঙ্গা করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে দেশ দু’টি।

খাবার ও পোশাক ক্রয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পানির বিল পরিশোধ এবং ফোন ব্যবহার ও হোটেল বুক করার মতো সেবাগুলো ভ্যাটের আওতায় পড়বে। তবে বাড়ি ভাড়া বা বিক্রি, নির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যয়, বিমানের টিকিট ক্রয় ও স্কুলের বেতনের মতো বড় খরচগুলো ছাড় পাবে।

কিন্তু আরব আমিরাতে উচ্চ শিক্ষায় কর দিতে হবে। আর স্কুলের ক্ষেত্রে পোশাক, বই, বাস ভাড়া ও খাবারের জন্য অভিভাবকরা যে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করবেন তার ওপর ভ্যাট বসবে। সেই সাথে বাড়ি ভাড়া বা ক্রয়ে মধ্যস্থতাকারীদের ফিও ভ্যাটের আওতায় থাকবে।

ধারণা করা হচ্ছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এমন ভ্যাট আদায় কর্মসূচি হাতে নেবে।

সৌদি আরব ও আরব আমিরাতে নতুন ভ্যাট কার্যকর হতে যাচ্ছে ১ জানুয়ারি থেকে। তার আগেই ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে রাখতে প্ররোচণা দিচ্ছে দেশ দু’টির বিভিন্ন দোকান ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

যদিও নতুন ভ্যাটের কারণে পণ্য ও সেবার মূল্য এক লাফে পাঁচ শতাংশ বেড়ে যাবে, তারপরও ইউরোপের তুলনায় সেটা খুব একটা উল্লেখ্যযোগ্য হবে না। সেখানে কিছু দেশে গড়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়।

আবুধাবি ভিত্তিক দ্য ন্যাশনাল সংবাদপত্র জানিয়েছে, ভ্যাটের কারণে আগামী বছর আরব আমিরাতে জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় আড়াই শতাংশ বেড়ে যাবে। যদিও মানুষের বেতন একই থাকবে।

আমিরাত সরকার আশা করছে, কর থেকে তারা প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি দিরহাম (৩৩০ কোটি মার্কিন ডলার) সংগ্রহ করতে পারবে, যা তেলের নিম্নমূল্যের ঘাটতি পুষিয়ে দেবে।

অন্যদিকে, সম্প্রতি নিজেদের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট দিয়েছে সৌদি আরব। আগামী অর্থবছরে তারা ব্যয় করবে ২৬ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। ভ্যাটের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়িয়ে ও ভর্তুকি কমিয়ে এই অর্থ সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তারপরও ২০২৩ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে ঘাটতি বাজেট থাকবে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোকে অ-তেল খাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে কর আরোপের পরামর্শ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। ব্যবসার লাভের ওপরও কর আরোপ বা বাড়াতে মত দিয়েছে সংস্থাটি।

আইএমএফের পরামর্শ অনুযায়ী, ইতোমধ্যে তামাকজাত পণ্য ও এনার্জি ড্রিংকে শতভাগ এবং কোমল পানীয়তে ৫০ শতাংশ কর আরোপ করেছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।