খুলনায় হঠাৎ করে গুইলেন বারি সিন্ড্রোম (জিবিএস) ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এক মাসে নগরীর দৌলতপুরে ও খালিশপুরে এ রোগে দুজন আক্রান্ত হয়েছে। একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

">
Pran All Time

খুলনায় জিবিএস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

UNB NEWS

শনিবার ৩০ জুন, ২০১৮ ১২:১০:৩১ পিএম

খুলনায় জিবিএস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে

খুলনা ৩০ জুন ২০১৮ (ইউএনবি)- খুলনায় হঠাৎ করে গুইলেন বারি সিন্ড্রোম (জিবিএস) ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এক মাসে নগরীর দৌলতপুরে ও খালিশপুরে এ রোগে দুজন আক্রান্ত হয়েছে। একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এর আগেও এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বেশ কয়েকজন। এর চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ রোগে আক্রান্ত কারো কারো সেরে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলে তা সম্ভব না।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাপকহারে হ্রাস পেলে গুইলেন বারি সিন্ড্রোম (জিবিএস) ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে। এটি ভাইরাস হলেও অন্যান্য ভাইরাসের মতো সংক্রামক নয়। তাই একজনের শরীর থেকে অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রথমে জ্বর জ্বর অনুভব হয় এবং পরে সারা শরীর অবস হয়ে যায়। মনে হয় প্যারালাজড হয়েছে। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২০ ভাগ রোগী সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেন। তবে সুচিকিৎসা ও যথাযথ ফিজিও থেরাপি পেলে ৮০ ভাগ মানুষ আবার আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে জানিয়ে তারা বলেন, এর চিকিৎসা খরচ অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আব্দুল আহাদ বলেন, গুইলেন বারি সিন্ড্রোম একটি ভাইরাস যা শরীরকে প্যারালাইজড করে দেয়। প্রথমে পা থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে উপরে ওঠে সারা শরীর অবস হয়ে যায়। একপর্যায়ে শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হয়ে রোগী মারা যায়। এ সময় রোগীর কৃত্তিম শ্বাস-প্রশ্বাস বা আইসিওতে ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন হয়। এ রোগের চিকিৎসা বেশ ব্যয় ব্যয়বহুল। ইউমোনোগ্লুমিন ইনজেন্কশন প্রয়োজন হয়, যা প্রতিটি এক লক্ষ টাকার উপরে। এ ইনজেনকশনের সাথে ফিজিও থেরাপি এ রোগের বড় চিকিৎসা।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নগরীর দৌলতপুরের ২ নং ক্রস রোডের বাসিন্দা নিরোদ মণ্ডলের ছেলে প্রদীপ কুমার মণ্ডল গত মাসে শরীরে জ্বর জ্বর অনুভব করেন। এরপর সারা শরীর অবস হয়ে যায়। প্যারালাইজড ধারণা করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পরে পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে গুইলেন বারি সিন্ড্রোম (জিবিএস) ধরা পরে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত বুধবার ঢামেক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে সে।

এদিকে নগরীর খালিশপুরে ফররুখ একাডেমির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম গত পাঁচদিন আগে একই রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। গত বছরে নগরীর সোনাডাঙ্গা বাবলু নামে এক শিক্ষার্থী একই রোগে আক্রান্ত হলে ঢাকা এ্যাপোলো হাসপাতাল পরে সাভারে জাতীয় পক্ষাঘাত পুনর্বাসন কেন্দ্রে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরে সুস্থ হয়। আর্থিক সামর্থ্য থাকায় প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সুস্থ হয় সে।