অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জীবনে এবার ঈদুল আজহা অনেক ভালোবাসা আর আনন্দ নিয়ে এসেছে। বিশেষ এই শিশুদের সাথে ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে দেশের প্রথম বেসরকারি বার্তাসংস্থা- ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) ও সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন- ঢাকা কুরিয়ার।

">
Pran All Time

বিশেষ শিশুদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি

UNB NEWS

রবিবার ১৯ আগস্ট, ২০১৮ ০৫:৩১:৪৮ পিএম

বিশেষ শিশুদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি

ঢাকা, ১৯ আগস্ট (ইউএনবি)- অটিজম আক্রান্ত শিশুদের জীবনে এবার ঈদুল আজহা অনেক ভালোবাসা আর আনন্দ নিয়ে এসেছে। বিশেষ এই শিশুদের সাথে ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে দেশের প্রথম বেসরকারি বার্তাসংস্থা- ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) ও সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন- ঢাকা কুরিয়ার।

সোসাইটি ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অব অটিস্টিক চিলড্রেন (সোয়াক) পরিচালিত বিশেষায়িত স্কুলের প্রায় ২৫ শিশু কুকিং এন ঈদ স্লাইল নামক রান্নার অনুষ্ঠানে বাবা-মার জন্য ঈদের রান্না করেছে।

অনুষ্ঠানটি ঈদের দিন ইউএনবির ফেসবুক পেজে সকলের জন্য প্রচার করা হবে।

রাজধানীর রয়্যাল পার্ক হোটেলে অনুষ্ঠানটির যৌথভাবে আয়োজন করে বার্তাসংস্থা ইউএনবি, সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ঢাকা কুরিয়ার। এই উদ্যোগে সহযোগিতা করেছে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (এসইএল) ও সোয়াক।

সোয়াক স্কুলের শিশুদের সাথে আরো যোগ দেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

শিশুরা পাঁচটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এবং প্রত্যেক গ্রুপ রয়্যাল পার্ক হোটেলের শেফদের সহযোগিতায় রান্নাঘরে বিভিন্ন রকম রান্না করে।

রান্নার কাজ ছাড়াও বিশেষ শিশুরা নাচ, গান, চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে দিনটি উপযাপন করে। 

অনুষ্ঠানটির রেডিও পার্টনার ছিল জনপ্রিয় রেডিও চ্যানেল- রেডিও ফুর্তি। সেখানেও শিশুরা তাদের আনন্দ-উল্লাস প্রকাশ করে।

সোয়াকের প্রতিষ্ঠাতা অভিভাবক ও চেয়ারপার্সন সুবর্ণা চাকমা বলেন, শিশুরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিয়েছে এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দিনটি উপযাপন করেছে।

এটি বাবা-মার কাছে স্বপ্নের মতো যে শিশুরা তাদের জন্য রান্না করছে, যোগ করেন তিনি। 

সোয়াকের আরেক প্রতিষ্ঠাতা অভিভাবক ও সম্পাদক সাবিনা হোসেন বলেন, অনুষ্ঠানটি নতুন ধরনের। অটিজমের জন্য যারা কাজ করেন তারা সবসময় অটিজমে আক্রান্ত মানুষদের সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রচেষ্টা চালান।

তিনি সমাজের মূলধারায় অটিস্টিক মানুষদের নিয়ে আসার জন্য সকলকে এগিয়ে আসার ও কাজ করার আহ্বান জানান। সোয়াক সম্পাদক বলেন, এই ধরনের অনুষ্ঠানে বিশেষ শিশুদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, উপযুক্ত পরিবেশে সুযোগ দেওয়া হলে তারাও সমাজের মূলধারায় নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। অটিজম আক্রান্ত শিশুরা সৃজনশীল কাজ করতে পারে এবং তাদেরও সমাজে অন্যদের মতো ঈদের আনন্দ উদযাপন করার অধিকার আছে।

র‌য়্যাল পার্ক আবাসিক হোটেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কির্থি উয়িরাগোদা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে উপহার ও পুরস্কার বিতরণ করেন।

তিনি শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।

রান্না ও অন্যান্য কাজ শেষ করার পর, শিশুরা তাদের বাবা-মাকে খাবার পরিবেশন করে এবং তারা একসাথে মধ্যাহ্নভোজ সারেন।

সোয়াক পরিচালিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পারস্পরিক মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে দিনব্যাপী নতুন দক্ষতা শিখতে শিশুদের সুযোগ প্রদান করেন।

এছাড়া শিক্ষার্থীরা গ্রুপের বিভক্ত হয়ে চিত্রাঙ্কন, গান ও খেলাধুলার মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রতিদিন কিছু সময় ব্যয় করে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, যথাযথ সামাজিক আচরণ শিক্ষা ও অনুশীলনের জন্য যোগাযোগ করার সুযোগ তৈরি করা হয়।