‘পৌষপার্বণে পিঠা খেতে বসি, খুশিতে বিষম খেয়ে/ আরো উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে।’ কবি বেগম সুফিয়া কামাল পিঠা নিয়ে তার কবিতায় এমন মধুর বর্ণনায় এ দেশের ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন।

">
Pran All Time

শীতে ঘরে বসে বানাতে পারেন মজাদার পিঠা

UNB NEWS

মঙ্গলবার ০২ জানুয়ারি, ২০১৮ ১২:৩৫:১৪ পিএম

শীতে ঘরে বসে বানাতে পারেন মজাদার পিঠা

ঢাকা, ০২ জানুয়ারি (ইউএনবি) – ‘পৌষপার্বণে পিঠা খেতে বসি, খুশিতে বিষম খেয়ে/ আরো উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে।’ কবি বেগম সুফিয়া কামাল পিঠা নিয়ে তার কবিতায় এমন মধুর বর্ণনায় এ দেশের ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
 
কুয়াশায় ঘেরা সকাল দেখেই বোঝা যায় শীত। উৎসবপ্রিয় আমাদের এ দেশে শীতের উৎসব পিঠা খাওয়া। পিঠা বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। শীতে পিঠা খেতে ভালোবাসেন না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া মুশকিল।

শীত এলে গ্রামে-গঞ্জে বিভিন্ন পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যায়। ঢেকিতে চাল গুড় করা হয়। খেজুরের গুড় আনা হয়। তারপর গাছ থেকে নারকেল, খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। এভাবেই আয়োজন শেষ করে পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যায়। ঘরে নিয়ে আসা হয় মেয়ে-জামাইসহ নিকট আত্মীয়দের। এভাবেই শীতে পিঠা উৎসব হয় আবহমান বাংলার ঘরে ঘরে।

নবান্নের এ সময় গ্রামে পিঠা তৈরি হলেও শহরে এর পরিমাণ কম। শহরের মানুষ নানা কাজের ব্যস্ততায় এ ঝামেলা পোহাতে চান না। অনেকে বাসাতেই তৈরি করে থাকেন দেশীয় পিঠা। আসুন জেনে নিই শীতের কিছু জনপ্রিয় পিঠার রেসিপি-

ভাপা পিঠা

উপকরণঃ  

   ২ কাপ চালের গুঁড়ো  
   ১ কাপ খেজুর গুঁড়ো
   ১ কাপ নারিকেল গুড়ো
   স্বাদ মতো লবন    
   পিঠা বানানোর বাঁটি
   একটি পাতিল
   একটি ছিদ্রযুক্ত ঢাকুনি

প্রণালীঃ

প্রথমে চালের গুরা চালুনিতে করে চেলে নিতে হবে। এরপর চালের গুঁড়োর সাথে পানি ছিটিয়ে, লবণ দিয়ে হালকাভাবে মেখে নিন। খেয়াল রাখবেন যেন দলা না বাঁধে।
এখন হাঁড়িতে পানি দিন, হাঁড়ি উপর ছিদ্রযুক্ত ঢাকুনিটি রেখে চুলায় বসিয়ে দিন, চুলাটি খুব অল্প আঁচে রাখুন, ঢাকুনির পাশে ছিদ্র থাকলে তা আটা বা মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিন। ছোট বাটিতে মাখানো চালের গুঁড়ো নিয়ে তার মাঝখানে পরিমাণ মতো গুড় দিন।
এরপর ওপরে অল্প চালের গুঁড়ো দিয়ে পাতলা কাপড়ে দিয়ে বাটির মুখ ঢেকে ছিদ্রযুক্ত ঢাকুনির ওপর বাটি উল্টে তা সরিয়ে নিন। ২ থেকে ৩ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর পিঠাটিতে নারিকেলের গুঁড়ো ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

ভাপা পুলি পিঠা

উপকরণঃ

(১) চালের কাই করার জন্য লাগবে :
     চালের গুড়া – ১ কাপ।
     পানি – ১ কাপ (একই মাপের কাপ)
      তেল – ১ টে. চামচ।
      লবন – পরিমানমতো।

(২) পুরের জন্য লাগবে :
     নারকেল – ১ কাপ।
     খেজুরের গুড় – ৩/৪ কাপ (নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী মিষ্টি কম বেশি দিতে পারেন)
    এলাচ গুড়া – ১/৪ চা. চামচ।

প্রণালীঃ

প্রথমে প্যানে অল্প পানির সাথে গুড় দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। তারপর নারকেল দিয়ে মিডিয়াম আঁচে জ্বাল দিন আর অনবরত নাড়তে থাকুন, নারকেল শুকিয়ে ঘন আর আঠালো হয়ে গেলে এলাচ গুড়া দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নামিয়ে ঠাণ্ডা হতে দিন।
এবার একটা প্যানে ১ কাপ পানি, ১ টে. চামচ তেল আর পরিমাণমতো লবন দিয়ে বলক আসার পরে চালের গুড়া দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ঢেকে রাখুন ৭/৮ মিনিট। তারপর সেই কাই ভালো করে মথে নেবেন।
এবার ছোট ছোট করে রুটির মতো বানিয়ে ভেতরে নারকেলের পুর ভরে ভালো করে সাইডগুলো সিল করে দেবেন। এখন বড় একটা হাঁড়িতে পানি গরম করে সেই হাঁড়ির উপরে বাঁশের চালনিতে পিঠা গুলো দিয়ে ঢেকে ১৫/২০ মিনিট ভাপে সিদ্ধ করবেন, তারপর পিঠা গুলো নামিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন ভাপা পুলি পিঠা।

তেলের পিঠা

উপকরণঃ
    
     চালের গুঁড়া ১ কাপ
     ময়দা হাফ কাপ
     খেজুরের গুড় বা চিনি অথবা ব্রাউন সুগার – ৩/৪ কাপ (কম বেশি  করা  যাবে)
    মৌরি আস্ত হাফ চা চামচ ( না দিলেও হবে )
    লবন এক চিমটি
    তেল ভাজার জন্য

প্রণালীঃ

একটি বাটিতে চালের গুঁড়া এবং ময়দা নিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। এবার গুড়, চিনি অথবা ব্রাউন সুগার দিয়ে ভাল করে মাখুন। অল্প পরিমাণে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে কেক মিশ্রণ-এর মতো মিশ্রণ তৈরি করুন। (মিশ্রণটি ঘন হবে) মিশ্রণটি ২ ঘণ্টা ঢেকে রেখে দিন।
কড়াই বা প্যান এ তেল গরম করুন। তেল পর্যাপ্ত গরম হলেই মিশ্রণ তেলে ছাড়ুন।

একটি বড় গোল চামচ (আমি ডাল এর চামচ দিয়ে করেছি) নিয়ে মিশ্রণটি নেড়ে এক চামচ পরিমাণ মিশ্রণ তেলে ছাড়ুন। কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যে পিঠাটি ফুলে উঠবে। ফুলে উঠলে পিঠাটি উল্টে দিয়ে আরো কিছুক্ষণ ভেজে তেল থেকে তুলে ফেলুন। নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন এই পিঠা।

পাটি সাপটা

উপকরণঃ

  ময়দা এক কাপ,
  ডিম ১টি,
  চিনি আধা কাপ,
  ঘন  দুধ  ১ কাপ,
  লবন সামান্য,
  ছোট এলাস গুড়া,আধা চা চামচ,
  ঘি -এক টেবিল চামচ (ব্রাশ করার জন্য),
  খিরসা- প্রয়োজন মতো

প্রণালীঃ

ডিম ফেটিয়ে তাতে দুধ, চিনি, লবণ মিশিয়ে আরো একটু ফেটিয়ে নিন। এরপর বাকি উপকরনগুলো এর সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিন।
এবার ফ্রাইপ্যান গরম করে তাতে সামান্য তেল ব্রাশ করে, ওই মিশ্রন অল্প জ্বালে ঢালবো, যেভাবে ডিম ভাজার জন্য গোলা দেই। আধা সেদ্ধ হলে, এর মধ্য খিরসা দিয়ে পিঠা মুরাব।

** খিরসা পাওয়া না গেলে অন্যভাবে পুর তৈরি করা যাবে।

১ লিটার দুধ ও ১কাপ চিনি জ্বাল দিয়ে ঘন করে তাতে ১কাপ গুড়ো দুধ ও এলাচের গুড়ো দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে হালুয়ার মতো করে নামিয়ে নিন। এই পুর পিঠায় ভরে পিঠা ভাঁজ করে পরিবেশন করুন।

বিবিখানা

উপকরণঃ

  চালের গুঁড়া– ২ কাপ
  ময়দা– ১/৪ কাপ
  ঘি– ১ কাপ
  গুড়া দুধ– ১ কাপ
  লিকুইড দুধ– দেড় কাপ
  কোকো পাউডার– ২ টে চামচ
  চিনি– ২ কাপ
  (গুঁড় দিয়েও করতে পারেন)
  ডিম– ৩টি
কোড়ানো নারকেল– ১ কাপ
এলাচ গুঁড়া– ১/২ চা চামচ
লবণ– ১ চিমটি
বাদাম/কিসমিস– ইচ্ছা

প্রণালীঃ

চালের গুঁড়া হালকা করে টেলে নিন। কেনা গুঁড়া হলে টালার দরকার নেই। চালের গুঁড়ার সাথে গুঁড়া দুধ, এলাচ গুঁড়া, ঘি, ময়দা ও কোকো পাউডার ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
ডিমের সাথে লিকুইড দুধ, চিনি, লবণ ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। এইবার এই মিশ্রণের সাথে চালের গুঁড়ো মিশ্রণ মিশিয়ে নিন। সবশেষে কোড়ানো নারকেল মেশান। বেকিং ডিশে ঘি ব্রাশ করে খামির ঢেলে প্রি-হিটেড ওভেনে ১৬০’ ডিগ্রী তাপে ৪৫-৫০ মিনিট বেক করুন ।
৪৫ মিনিট পর একটি কাঠি বা টুথপিক ঢুকিয়ে দেখে নিন, কাঠিতে কিছু না লেগে থাকলে বুঝতে হবে পিঠা হয়ে গেছে। আর যদি দেখেন কাঠিতে ব্যাটার লেগে রয়েছে তাহলে সময় আরো কিছুটা বাড়িয়ে দেবেন। ৪৫-৫০ মিনিটের বেশী সময় লাগার কথা নয়।
** পিঠা পুরোপুরি ঠান্ডা হলে বেকিং ডিশ উল্টিয়ে সার্ভিং ডিশে বের করে নিন। ছুরি দিয়ে টুকরা করে পরিবেশন করুন।


দুধ চিতই

উপকরণঃ
    
    চালের গুড়া ২ কাপ
    পানি ও লবণ পরিমাণমতো
    ১ লিটার দুধ
    গুড় ২ কাপ

প্রণালীঃ

চালের গুড়ায় পানি মিশিয়ে তরল মিশ্রণ তৈরি করুন। খেয়াল রাখবেন বেশি পাতলা বা বেশি ঘন যেন না হয়। তবে পাতলা গোলা করলে পিঠা সুন্দর নরম হয়। যে পাত্রে পিঠা ভাজবেন সেটাতে সামান্য তেল মাখান। এখন পাত্রটি হালকা গরম করে ২ টেবিল চামচ চালগোলা দিয়ে ঢেকে দিন। ২-৩ মিনিট পর পিঠা তুলে ফেলুন। ১ লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে সামান্য ঘন করুন।

আলাদা করে দেড়কাপ পানিতে ২ কাপ গুড় জ্বাল দিয়ে গুড়ের সিরা তৈরি করুন। সিরায় পিঠা ছেড়ে চুলায় দিয়ে কিছুক্ষণ জ্বাল দিন। ঠাণ্ডা হলে দুধ দিয়ে কিছু সময় ভিজিয়ে রাখুন। সকালে এই পিঠা খেতে মজা।