Pran All Time

‘সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় নারীরা অবমূল্যায়িত’

UNB NEWS

শনিবার ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৭:১২:৪৬ পিএম

‘সুনির্দিষ্ট  আইন  না  থাকায়  নারীরা  অবমূল্যায়িত’

ঢাকা,  ২৩  ডিসেম্বর  (ইউএনবি)-  ঘরের  কাজের  মূল্যায়ন,  স্বীকৃতি  ও  পুনর্বণ্টনের  বিষয়ে  সুনির্দিষ্ট  নীতি  ও  আইন  না  থাকায়  নারীরা  পারিবারিক,  সামাজিক  ও  অর্থনৈতিক  মূল্যায়ন  পান  না।


শনিবার  ঢাকার  গুলশানে  ‘দক্ষিণ  এশিয়ায়  নারীর  অর্থনৈতিক  ক্ষমতায়ন  এবং  গৃহস্থালির  সেবামূলক  কাজ:  নীতি  পর্যালোচনা’  নামে  একটি  প্রতিবেদন  তুলে  ধরে  একশন  এইড  বাংলাদেশ  নামে  একটি  সংস্থা।


বাংলাদেশসহ  দক্ষিণ  এশিয়ার  ভারত,  নেপাল  ও  পাকিস্তানের  নীতি  পর্যালোচনা  করে  প্রতিবদনটিতে এ  দাবি  করা  হয়েছে।
 

প্রতিবদনটিতে  বলা  হয়েছে,  আইন  না  থাকায়  বাংলাদেশের  একজন  নারী  প্রতিদিন  গড়ে  প্রায়  সাড়ে  ছয়  ঘণ্টা  সেবামূলক  কাজ  করলেও  তার  মূল্যায়ন  পান  না।  এই  চারটি  দেশের  নারীর  অর্থনৈতিক  ক্ষমতায়নের  মূল  প্রতিবন্ধকতা  হচ্ছে  তাদের  উপর  গৃহস্থালীর  সেবামূলক  কাজের  অসম  চাপ।  নেপালের  নারীরা  গৃহস্থালীর  সেবামূলক  কাজে  দৈনিক  ৬.৬  ঘণ্টা  সময়  ব্যয়  করেন।  বাংলাদেশের  নারীদের  প্রতিদিন  ৬.৩  ঘণ্টা  সময়  দিতে  হয়  সেবামূলক  কাজে।  আর  ভারতের  নারীরা  ব্যয়  করেন  দৈনিক  ৫.১  ঘণ্টা।  যেখানে  এই  কাজে  পুরুষরা  সময়  দেন  যথাক্রমে  নেপাল  ২.২  ঘণ্টা,  বাংলাদেশ  ১.১  ঘণ্টা  এবং  ভারতে  মাত্র  ০.৪  ঘণ্টা।  তবে  এই বিষয়ে  পাকিস্তানের  তথ্য  সংগ্রহ  করা  সম্ভব  হয়নি  বলে  প্রতিবেদনটিতে  উল্লেখ  করা  হয়।


আইএলও-এর  মানদণ্ড  অনুযায়ী  একজন  ব্যক্তির  সপ্তাহে  সর্বোচ্চ  ৪৮  ঘণ্টা কাজ  করার  কথা।  কিন্তু  এই  তিন  দেশের  জরিপ  বলছে,  নারীরা  পুরুষের  তুলনায়  বেশি  সময়  কাজ  করছে,  এজন্য  তারা  সময়  সংকুলানের  চাপে  পড়ছে।  এ  কারণে  নারীরা  ঘুম,  বিশ্রাম  বা  ব্যক্তিগত  সেবার  জন্য  কম  সময়  পাচ্ছে।


গবেষণা  প্রতিবেদন  নিয়ে  ব্র্যাক  ইনস্টিটিউট  অব  জেন্ডার  অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর  প্রধান  গবেষক  ড.  সিমিন  মাহমুদ  বলেন,   ‘ঘরের  কাজ  নিয়ে  অসম  চাপে থাকেন  নারীরা।  যা  অর্থনৈতিক,  সামাজিক  ও  রাজনৈতিকভাবে  পিছিয়ে দিচ্ছে  তাদের।’ প্রতিবেদনে  বলা  হয়,  নারীর  ক্ষমতায়ন  ও  উন্নয়নের  জন্য  বাংলাদেশের অনেকগুলো  নীতি  ও  আইন  আছে।  তবে  ওই  নীতিগুলোতে  সুনির্দিষ্টভাবে পরিবারের  সেবামূলক  কাজের  মূল্যায়ন,  স্বীকৃতি  ও  পুনর্বণ্টনের  কোনো   বিষয়  নেই।


একশন  এইড  বাংলাদেশের  কান্ট্রি  ডিরেক্টর  ফারাহ্  কবির  বলেন,  ‘আমরা  গৃহস্থালীর  কাজকে  অর্থনীতিতে  স্বীকৃতি  না  দেয়ার  কারণে  এই  কাজের মূল্যায়ন  হচ্ছে  না।


একদিকে  নারী  পরিবার  বা  সমাজে  তার  কাজের  মূল্যায়ন  পান  না।  অন্যদিকে  রাষ্ট্র  তার  নীতি  ও  আইনে  মূল্যায়নের  বিষয়টি  উপেক্ষা  করছে।  ফলে  নারীরা  ঘরের  মধ্যেই  সীমাবদ্ধ  থাকছে।’


বাংলাদেশ  উন্নয়ন  গবেষণা  প্রতিষ্ঠানের  জ্যেষ্ঠ  গবেষক  ড.  নাজনিন  আহমেদ  বলেন,  ‘নারীর  ঘরের  সেবামূলক  কাজের  মূল্যায়ন  ও  র্স্বীকৃতি  না  থাকায়  তার  ক্ষমতায়নের  পথে  বাধা  তৈরি  হচ্ছে।  তাই  এই  কাজের  একটা  আলাদা  হিসাব করতে  হবে  এবং  সেটা  হতে  হবে  সুনির্দিষ্ট।  যাতে সমাজে  বা  রাষ্ট্রে  তার  মূল্যায়ন  করা  যায়।  আমাদের  শিক্ষা  ব্যবস্থাতেও  নারীদের  দেখানো  হয়েছে  গৃহস্থালী  কাজ  করার  মূল  ব্যক্তি  হিসেবে।  ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে  উঠলে  মেয়েদের  পড়ানো  হয়  গার্হস্থ্য  অর্থনীতি  এবং  ছেলেদের পড়ানো  হয়  কৃষি  ব্যবস্থা।  শিক্ষা  ব্যবস্থায়  এমন  লিঙ্গ  বৈষম্য  করা  ঠিক  না।’


অনুষ্ঠানে  সার্ক  ও  বিমসটেক-এর  মহাপরিচালক  মো.  শামসুল  হক  বলেন,  ‘সার্ক-এর  বেশ  কিছু  নীতিতে  নারী  উন্নয়নের  কথা  বলা  আছে।  তবে  নারীর  ঘরের  কাজের  বিষয়ে  সুর্নিদিষ্ট  উদ্যোগ  দরকার।  সরকারকে  নীতি  ও  আইনের মাধ্যমে সহযোগিতা করতে হবে।’


সার্ক  কৃষি  কেন্দ্রের  পরিচালক  ড.  শেখ  মোহাম্মদ  বখতিয়ার  বলেন,  ‘নারীর  ক্ষমতায়নের  জন্য  সরকারি  পর্যায়ে  স্বীকৃতি  দিতে  হবে।  দক্ষিণ   এশিয়ার  জাতীয়  পর্যায়ে  কৃষির  যে  উন্নয়ন  হয়েছে  তার  অনেকাংশে  নারীর  অবদান  রয়েছে।  নারীরা  পিছিয়ে  নেই।  তাই  আমাদের  মানসিকতার  পরিবর্তন  করা  উচিত।’