Pran All Time

ঈদ পরবর্তী ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে ভিড়

প্রিয়াংকা কুণ্ডু ও ওয়াহিদা জামান সিঁথি

বৃহস্পতিবার ২৩ আগস্ট, ২০১৮ ০৫:১৮:২২ পিএম

ঈদ পরবর্তী ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে ভিড়

ঢাকা, ১৭ আগস্ট (ইউএনবি)-শহুরে ব্যস্ততা আর কংক্রিটময় জীবনে দেশের বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর স্থানগুলো ভ্রমণের সুযোগ খুব কমই হয়ে থাকে। ঈদের ছুটি মানুষের জীবনে সেই সুযোগটুকু এনে দেয়।

বাংলাদেশে ঈদের ছুটিতে ভ্রমণে যাওয়া একটা প্রথায় পরিণত হয়েছে। ঈদের ছুটিতে ভ্রমণপিপাসুরা কখনো এক দিনের ছুটিতে কোথাও চলে যান, আবার কখনো রোমাঞ্চকর অভিযানে দল বেঁধে ছুটে যান পাহাড়ে।

পরিবারের সাথে ঈদ কাটানোর পাশাপাশি রাজধানীতে বসবাসকারী অনেকে বন্ধু ও পরিবারের সাথে প্রকৃতির গভীর সৌন্দর্যে নিজেদের বিলিয়ে দিতে পছন্দ করেন। তাইতো ঈদের ৪-৫ দিনের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিনোদন বা পর্যটন কেন্দ্রে ছুটে যান তারা।

ভ্রমণপিপাসু ও পর্যটন কোম্পানিগুলো জানায়, সিলেট, কক্সবাজার, পতেঙ্গা, কুয়াকাটা, সু্ন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রাম, বিভিন্ন জাতীয় পার্ক ও অপ্রথাগত জায়গাগুলোতে ছুটির সময় পর্যটকদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

ইউএনবির কক্সবাজার এবং পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ঈদের পরের দিন কক্সবাজার, চট্টগ্রাম এবং কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সময়ের সাথে সাথে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তারা আরো জানান, স্থানীয় আবাসিক হোটেল, মোটেল এবং বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি আশা করছে, আগামী কয়েকদিনে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।

সরকারি ব্যাংকে কর্মকর্ত মাসুদুল ইসলাম ঈদুল-আজহার ছুটির মধ্যে তিন দিনের জন্য স্ত্রীকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে ভ্রমণে বের হয়েছেন। তিনি বলেন, ঈদের ছুটি ছাড়া ভ্রমণে বের হওয়ার তেমন সুযোগ হয়ে উঠে না। এই সময়ে চেষ্টা করি প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে। পরবর্তী শহুরে ব্যস্তজীবনে আবারো ফিরে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির পাশাপাশি নির্মল ও পরিষ্কার বাতাস আমাদের মনকেও শান্ত করে দেয়।

কুয়াকাটায় পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাওয়া রাজধানীর বাসিন্দা নাজনীন সুলতানা জানান, ঈদের ছুটি ছাড়া পরিবারের সদস্যদের একসাথে হওয়া হয় না। তাই এই সুযোগে পরিবারের সদস্যদের সাথে একটু ভালো সময় কাটাতে ৩-৪ দিনের ছুটিতে সমুদ্র সৈকতে গিয়েছেন তারা।

এদিকে ঈদের ছুটিকে সামনে রেখে বিভিন্ন ট্যুর অপারেটর, হোটেল-মোটেল আর ট্রাভেল এজেন্সির পাশাপাশি টুরিস্ট পুলিশও নানান ব্যবস্থা নেয়। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে হোটেল-মোটেলের পক্ষ দেয়া হয় বিভিন্ন আকর্ষণীয় ছাড়।

কক্সবাজারের র‌্যয়াল টিউলিপ হোটেলের বিক্রয় ও বিপণন ব্যবস্থাপক বায়েজিদ নিজাম ইউএনবিকে বলেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ এই সময়ে সাধারণত দুটি কারণে ব্যাপক ভিড় প্রত্যক্ষ করছে। প্রথম ঈদের ছুটি এবং দ্বিতীয়ত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা সংকটের কারণে অনেক দেশি-বিদেশিদের অবস্থান।

ঈদের ছুটিতে হোটেলের প্রায় সবগুলো কক্ষের বুকিং চূড়ান্ত হয়ে গেছে জানিয়ে বায়েজিদ বলেন, ঈদ উপলক্ষে তারা ৪০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থাও রেখেছিলেন।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল এবং গেস্ট হাউজ মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম ইউএনবিকে জানান, এই ঈদে তারা ৮০-৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং পেয়েছেন, যা ঈদুল-ফিতরের চেয়ে প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। 

এছাড়াও সমুদ্র সৈকতের নিকটস্থ হোটেল-মোটেলগুলো পূর্বে থেকেই শতভাগ বুকিং হয়েছে বলে জানান তিনি।

দেশের অপর সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়ও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়ে হোটেলসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কেনা বেচার ধুম পড়েছে। অধিকাংশ হোটেল, মোটেলের কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে যাওয়ায় সদ্য কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসা পর্যটকদের ভালো কক্ষ পেতে কষ্ট হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সব দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছে।

কুয়াকাটা জিরো পয়েন্টে শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার, মিশ্রিপাড়া সিমা বৌদ্ধ বিহার, জাতীয় উদ্যান, লেম্বুর চর, শুটকি পল্লী, রাখাইন মহিলা মার্কেট, গঙ্গামতি, কাউয়ার চর, লাল কাকড়ার চর, ইলিশ পার্কসহ পর্যটন স্পটগুলো এখন পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে আছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে পর্যটকদের এমন উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে ভ্রমণ পিপাসুদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

বাংলাদেশে টুরিস্ট পুলিশের চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি মুহাম্মাদ মুসলিম ইউএনবিকে বলেন, দেশের প্রধান পর্যটন স্থান কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি এবং চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। এসব স্থানে টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়ের করা হয়েছে।