চলতি বছরে সাতক্ষীরায় কুইকস্টার জাতের ওলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে এর দামও ভালো মেলায় কৃষকের মুখের হাসি চওড়া হয়েছে।

">
Pran All Time

ওলকপির ভালো দামে খুশি সাতক্ষীরার কৃষকরা

UNB NEWS

মঙ্গলবার ২৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ১০:৩৩:৩১ পিএম

ওলকপির ভালো দামে খুশি সাতক্ষীরার কৃষকরা

এম কামরুজ্জামান

সাতক্ষীরা, ২৩ জানুয়ারি (ইউএনবি)- চলতি বছরে সাতক্ষীরায় কুইকস্টার জাতের ওলকপির বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে এর দামও ভালো মেলায় কৃষকের মুখের হাসি চওড়া হয়েছে।

কৃষকদের দেয়া তথ্যমতে, এবার প্রতি বিঘাতে ১২০ থেকে ১৩০ মন পর্যন্ত ওলকপি উৎপাদিত হয়েছে। কৃষকদের দাবি, এবার প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আয় হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের মতিয়ার রহমান জানান, চলতি মৌসুমে দুই বিঘা পরিমান জমিতে কুইকস্টার জাতের ওলকপি চাষ করতে খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এরই মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় ১৭০ মন ওলকপি বিক্রি করেছেন। এখন পর্যন্ত ক্ষেতে যে পরিমান ওলকপি রয়েছে; তাতে কমপক্ষে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

একই গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামান জানান, স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে দেড় বিঘা জমিতে ওলকপি বীজ ক্রয়, বীজ বোপন, সেচ, সার কীটনাশকে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। আর এ পর্যন্ত ক্ষেতের কপি বিক্রি করেছেন ১ লাখ ১০ হাজার টাকার। জমিতে আরো কপি রয়েছে।

সাতক্ষীরা সুলতানপুর বড় বাজার কাচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী বলেন, অন্যান্য শীত মৌসুমের তুলনায় এবার সবধরনের সবজির দাম বেশি। গতবার এ সময় যে ওলকপি পাইকারী প্রতি মন ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। এবার তা বিক্রি হচ্ছে ৬৪০ থেকে ৬৮০ টাকা দামে।

এদিকে সাতক্ষীরা জেলা খামার বাড়ি সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীত মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলার ৯ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন প্রকার শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে সাতক্ষীরা সদরে রয়েছে ২ হাজার ৭৫০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৯০০ হেক্টর, তালায় ১ হাজার ৩২০ হেক্টর, দেবহাটায় ৭৫০ হেক্টর, কালিগঞ্জে ১ হাজার ১৫০ হেক্টর, আশাশুনিতে ৬০৫ হেক্টর ও শ্যামনগরে ৭৫০ হেক্টর জমি। এসব সবজির মধ্যে রয়েছে ফুলকপি, ওলকপি, বাধাকপি, পালঙ শাক, সিম, বরবটি ও টমেটো।

সূত্রটি আরো জানায়, গত শীত মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলাতে ৯ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছিল। সে হিসাবে অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ২০০ বিঘা পরিমাণ আবাদ বেশি হচ্ছে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আবদুল মান্নান জানান, জাপানি কুইকস্টার জাতের ওলকপি যেমন আগাম ওঠে; তেমনি ফলনও হয় বেশি। ফলন হয় বিঘাতে ১২০-১২৫ মন পর্যন্ত।

তিনি আরো বলেন, দুই বছর থেকে এই ওলকপি চাষ করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করছেন কৃষকরা।