গত কয়েক বছর ধরে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আইনকানুন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকঠাক থাকলেও বর্তমান চিত্র ভিন্ন।

">
Pran All Time

নিরাপত্তাহীনতায় ঢাবি ক্যাম্পাস, বাড়ছে অপরাধ

UNB NEWS

শনিবার ০৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ১১:৪১:৪৬ এএম

নিরাপত্তাহীনতায় ঢাবি ক্যাম্পাস, বাড়ছে অপরাধ

ইমরান হোসেন, ০৬ জানুয়ারি (ইউএনবি)- গত কয়েক বছর ধরে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আইনকানুন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিকঠাক থাকলেও বর্তমান চিত্র ভিন্ন।

চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, রাতে নিরাপত্তাহীনতাসহ বহিরাগতদের ভিড়ের কারণে ঢাবি ক্যাম্পাসে বেড়ে চলেছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ।

ক্যাম্পাসের প্রতিটি মোড়ে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তেমন কাজে আসছে না। এমন অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীসহ সবাই।

এই পরিস্থিতির জন্য ঢাবি প্রশাসনের অবহেলা ও উদাসীনতাকে দায়ী করছেন সাধারণ ছাত্ররা। তাদের অভিযোগ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ নিয়ম শৃংখলা আইন এবং যানবাহন চলাচলের আইনের যথাযথ প্রয়োগ করছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

আরবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রাশেদুল হক খান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আপনি এখানে যখন তখন ছিনতাইয়ের শিকার অথবা বহিরাগতদের গাড়ির চাকায় পিষ্ট হতে পারেন।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,  ক্যাম্পাসে ছিনতাই এবং চুরির মতো ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে।

গতবছর ১৯ নভেম্বর ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনের স্মৃতিসৌধ এলাকা থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক ছাত্র শরিফুল ইসলামের হাতব্যাগ ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন তিনি।

একই জায়গায় গত ১৬ নভেম্বর এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এক লাখ টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে এক ছিনতাইকারীকে পাকড়াও করে পুলিশের হাতে তুলে দেয় সাধারণ জনতা।

শুধু ক্যাম্পাসেই নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতেও বেড়ে গেছে এ ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রাবাস থেকে প্রায়ই তাদের টাকাপয়সা, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, সাইকেল, মোটরসাইকেলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে যায়।

ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে যে কারো প্রবেশের ক্ষেত্রেই নেই কোনো নিয়ন্ত্রণ। ভিক্ষুক থেকে শুরু করে ছিনতাইকারী এবং ঘরহীন দরিদ্রদের অনেকেই এই ক্যাম্পাসকে তাদের রাত্রি যাপনের অস্থায়ী নিবাসে পরিণত করেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বহিরাগতরা ক্যাম্পাসে তাদের বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচির সময় ও  স্থান নির্ধারণ করে। এছাড়াও এখানে অসামাজিক কার্যকলাপের প্রচুর অভিযোগ রয়েছে যা ঢাবির নামকে কলুষিত করছে।

দর্শন বিভাগের ছাত্র তারিকুল ইসলাম বলেন, কিছু অবাঞ্ছিত ঘটনার কারণে ঢাবির প্রতি সাধারণ মানুষের মনে খারাপ ধারণার জন্ম হয়েছে যার জন্য কোনোভাবেই ঢাবির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, এবং অন্যান্য কর্মচারীরা দায়ী নয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অতিদ্রুত এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ঢাবি তার গৌরব ও সম্মান হারাবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তিনি।

ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এটা সত্য যে আমরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে গণপরিবহন এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে।’ যদিও পরিকল্পনার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

রাজধানীর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত হওয়ায় ঢাবি ক্যাম্পাসে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা একটু কষ্টকর উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা চালয়ে যাচ্ছি।’