Pran All Time

মুন্সীগঞ্জে বিশ্ব ঐতিহ্য প্রত্ননিদর্শনের সম্ভাবনা

UNB NEWS

বৃহস্পতিবার ০৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৫:০৭:০৩ পিএম

মুন্সীগঞ্জে বিশ্ব ঐতিহ্য প্রত্ননিদর্শনের সম্ভাবনা

একেএম মঈনুদ্দিন

মুন্সীগঞ্জ, ০৪ জানুয়ারি (ইউএনবি) - মুন্সীগঞ্জের নাটেশ্বরে চলমান খনন এলাকা বিক্রমপুর বৌদ্ধবিহারে একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রত্ননিদর্শন হিসেবে আবির্ভুত হওয়ার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা।

বুধবার প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলেন, এখানে ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক-গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোর একটি অনন্য সমন্বয় পাওয়া গেছে। এটি প্রাচীন বাংলার একটি কেন্দ্রবিন্দু এবং রাজধানীর খুব কাছে। এই প্রত্ননিদর্শন সংরক্ষণ এবং উন্নয়ন উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার নাটেশ্বরের এই খনন স্থানে একটি বৌদ্ধ শহরের কয়েক হাজার বছরের পুরোনো প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকরা ও বিশেষজ্ঞরা। প্রাপ্ত নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে একটি প্রবেশদ্বার এবং পায়ে হাঁটা পথ, প্রার্থনা হল, মর্টার তল, অষ্টভুজাকৃতি স্তূপ, পাত্র শ্রিড, বেকড মৃত্তিকা সামগ্রী এবং পোড়া ইট। রয়েছে অনন্য নান্দনিক স্থাপত্য শৈলী। একটি স্তূপ যা একটি টিবির মতো বা গোলাকার ধ্বংসাবশেষের মতো যেটি ধ্যানের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

এলাকাটি পরিদর্শনকালে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বলেন, ঢাকার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো। তাই, উন্নয়নের মাধ্যমে প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি খুব সুন্দর পর্যটন এলাকা হতে পারে। যদিও প্রত্নতাত্ত্বিক পরিপ্রেক্ষিতে অগ্রগতি হয়েছে। তবুও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া কঠিন মনে হয়। কারণ বাংলাদেশে প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং অর্থের অভাব রয়েছে বলে মনে করেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

এর জন্য সরকারের উচিত অর্থ সংগ্রহ করা। চীন আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য ইচ্ছুক। কিন্তু সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করছে না বলে ইউএনবি কাছে অভিযোগ করেছেন খনন কাজের প্রধান অধ্যাপক সুফি মুস্তাফিজুর রহমান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, একজন প্রত্নতত্ত্ববিদও আসবেন না; যদি তাদের অনুরোধ গ্রহণ করা হয় না। "এ কারণেই অনেকেই নিষ্ক্রিয় এবং নীরব রয়েছেন। আমি গবেষক ও শিক্ষক হওয়ায় এখানে যুক্ত রয়েছি।

"আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। যদি সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তবে এই অঞ্চলটি একটি অনেক বড় পর্যটক জোন হিসেবে গড়ে উঠবে বলে উল্লেখ করেন, অধ্যাপক ড. রহমান। 

তিনি বলেন, বৌদ্ধ পণ্ডিত, ধর্ম গুরু এবং দার্শনিক অতিশা দীপঙ্করের বাড়ি এখানে থাকায় চীন খুব আগ্রহী।

সফরকালে ঢাকা মিশনের চীনা ডেপুটি চীফ চেন ওয়েই বলেন, এটি বাংলাদেশ ও চীনের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

এই কূটনৈতিক ইউএনবিকে বলেন, আমি খুবই আগ্রহী। অনেক বেশি সম্ভাবনা দেখেছি, বিশেষ করে এটি চীনা পর্যটকদের জন্য খুব আকর্ষণীয় হবে।

তিনি বলেন, তারা প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করবে, যদি বাংলাদেশ সরকার এক বেল্ট, এক রাস্তা (ওবিওআর) উদ্যোগের অধীনে তহবিল সংগ্রহ করে।

চীনের কূটনীতিক বলেন, যদি এটি সংরক্ষিত এবং ভালভাবে বিকশিত করা হয়। তবে এটি একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হতে পারে।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক শাহনাজ হোসেন জাহান এটিকে অনন্য এক নির্দশন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি একটি চমৎকার অর্জন। এখন সংরক্ষণ করতে হবে।

তিনি বলেন, এটি আরেকটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হতে পারে। যদি এটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়। তবে এতে সময় লাগবে।

তিনি ইউএনবিকে বলেন, অর্থ ও প্রযুক্তিতে আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু আমরা বৈজ্ঞানিক প্রতিবেদন তৈরিতে সক্ষম হবো।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রফেসর শাহনাজ বলেন, এটি ঢাকার সাথে সংযুক্ত এবং মানুষ এখানে বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদীর উপর দিয়ে আসতে পারে। বৌদ্ধ ঐতিহ্য পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে এখানে।

অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, এটি দেশের সেরা ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর একটি এবং এর জন্য চীনের সর্মথন চাওয়া অব্যাহত রয়েছে। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন এবং সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহায়তায় খননকার্য পরিচালিত হচ্ছে। 

২০১০ সালে এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা শুরু হয়। এবং ২০১০-১৩ অর্থবছরে বিক্রমপুর অঞ্চলে নয়টি স্থানে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ এবং খনন কাজ শুরু হয়। এই সময়ের মধ্যে বড় আবিষ্কার হচ্ছে রঘুরামপুরের বিক্রমপুর বৌদ্ধ বিহার।

২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত যৌথ প্রত্নতাত্ত্বিক দল "সফলভাবে" নাটেশ্বরের পাঁচটি বৃহৎ খননকার্য পরিচালনা করেছে।

শনিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অঞ্চলটি পরিদর্শন করবেন।