যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা ও বেনাপোল অঞ্চলে সড়ক- মহাসড়কসহ গ্রামের অলি গলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যানবাহন।

">
Pran All Time

যশোরের সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যানবাহন

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছেন স্থানীয়রা

UNB NEWS

শনিবার ০৪ আগস্ট, ২০১৮ ০৭:৫৭:১৩ পিএম

যশোরের সড়ক-মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যানবাহন

মহসিন আলী

বেনাপোল, ০৪ আগস্ট (ইউএনবি)- যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা ও বেনাপোল অঞ্চলে সড়ক- মহাসড়কসহ গ্রামের অলি গলিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ যানবাহন।

যাত্রীবাহী নছিমন, করিমন ও ভটভটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয় মানুষ।

এসব যানবাহনে ইটবালি, গাছের বড় বড় গুঁড়ি নিয়ে বেপরোয়া চলাচল করায় বাড়ছে দুর্ঘটনা।

অকালে ঝরে যাচ্ছে তরতাজা প্রাণ। কাউকে আবার সারা জীবনের মতো বরণ করে নিতে হচ্ছে পঙ্গুত্ব।

এছাড়া এসব যানবাহনের বিকট শব্দের কারণে ঘটছে শব্দ দূষণও। ফলে পথচারীসহ জনসাধারণকে সার্বক্ষণিক আতংকের মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে।

মহাসড়কে অবৈধ এসব যানের অবাধ চলাচল দেখেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না প্রশাসন।

স্থানীয়রা জানায়, এসব নছিমন, করিমন বিভিন্ন কিন্ডার গার্ডেনের কোমলমতি শিশুদের স্কুলে যাওয়া আসার কাজেও বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

দেশের কৃষি উন্নয়ন তথা চাষাবাদের কাজে ব্যবহার করার জন্যই সরকার বিদেশ থেকে ট্রাক্টর আমদানি করার অনুমতি দেয় নামমাত্র শুল্কে। কিন্তু চাষাবাদের জন্য আমদানিকৃত এসব ট্রাক্টর অবৈধ ট্রলি-ট্রাক বা নানা পরিবহনে রূপান্তরিত করে মানুষের চলাচল উপযোগী করে সড়কে চলাচল করছে। আবাদি জমি ছেড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে মহাসড়কসহ শহর ও বাজার কেন্দ্রীক সড়কগুলোতে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় শিশু-কিশোররাও অদক্ষভাবে এসব ট্রাক্টর অবাধে চালাবার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।

সড়ক মহাসড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা হয় তার অধিকাংশ ঘটে ট্রাক্টর, টলি, নসিমন, করিমন ও ভটভটির কারণে।

নাভারন হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর শতাধিক মানুষ মারা যায় এ ধরনের অবৈধ যানবাহনে। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা দ্বিগুন হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

বেপরোয়া গতি ও বিকট আওয়াজে চলাচলকারী এসব যানবাহনের কারণে শহরের পাশাপাশি গ্রামগুলোতে ব্যাপকভাবে পরিবেশ দূষণ দেখা দিয়েছে। শব্দ ও বায়ুদুষণ এখন গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পৌঁছে দিয়েছে এসব বাহন।

প্রতিনিয়ত শতশত ট্রলি-ট্রাক্টর, নসিমন, করিমনসহ অবৈধ যানবাহন সড়ক-মহাসড়ক থেকে শুরু করে গ্রামের অলি গলি সড়কগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবৈধ এই ট্রলি-ট্রাক্টর,  নসিমন, করিমনের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই।

হাইওয়ে পুলিশসহ থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে এসব ট্রলি-ট্রাক্টর সড়কে চলাচল করার কারণে জনসাধারণের প্রতিরোধের মুখেও তা বন্ধ হচ্ছে না।

বেশ কিছু ট্রাক্টর মালিকের সাথে কথা হলে তারা জানান, সংশ্লিষ্টদের মাসোহারা দিয়েই এসব ট্রলি-ট্রাক্টর, নসিমন, করিমন সড়ক-মহাসড়কে চালাচ্ছেন তারা।

নসিমনের চালক  আ. রহিম বলেন, গরিব মানুষ পেটের দায়ে এ ধরনের যান চালিয়ে সংসার চালাই। মাঝে মধ্যে পুরিশ ধরলে অনুনয় বিনয় করে রক্ষা পাই।

নাভারন হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পলিটন মিয়া বলেন, অবৈধ এ যানের চলাচল প্রতিরোধে প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যারা ধরা পড়ছেন তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বেনাপোল বন্দর থানার ওসি  তারেক মাসুদ সড়কে বেআইনিভাবে চলাচল করা যানবাহন সম্পর্কে বলেন, আমরা যতটুকু সম্ভব অভিযান পরিচালনা করে ট্রাক্টর মালিক ও চালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছি। প্রকৃতপক্ষে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা ট্রাফিক বিভাগের কাজ। এ সংক্রান্ত বিষয়ে তারাই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এগুলো থানা পুলিশের কাজ না।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুলক কুমার মণ্ডল জানান, সড়ক মহাসড়ক  নিরাপত্তার জন্য এসব অবৈধ যানের চলাচল প্রতিরোধে আমরা কাজ করছি। বিভিন্ন স্থানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি। যারা ধরা পড়ছেন তাদের যান আটকে রাখা ও জরিমানা করাসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।