বিশ্বের জনবহুল নগরীগুলোর মধ্যে অন্যতম রাজধানী ঢাকা। ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। ঈদে রাজধানী ছাড়ে বিপুল জনসংখ্যা। আর এই নগরী থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের বাড়ি ফেরার অন্যতম মাধ্যম হলো নৌপথ।

">
Pran All Time

ঈদে বাড়ি ফেরা: রঙ-কালিতে পুরনো লঞ্চও নতুন হয়ে উঠছে

আজিজুল হক

বৃহস্পতিবার ১৬ আগস্ট, ২০১৮ ১২:৪২:৫৫ পিএম

ঈদে বাড়ি ফেরা: রঙ-কালিতে পুরনো লঞ্চও নতুন হয়ে উঠছে

জবি প্রতিনিধি, ১৬ আগস্ট (ইউএনবি)- বিশ্বের জনবহুল নগরীগুলোর মধ্যে অন্যতম রাজধানী ঢাকা। ঈদকে কেন্দ্র করে ঢাকা প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ে। ঈদে রাজধানী ছাড়ে বিপুল জনসংখ্যা। আর এই নগরী থেকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের বাড়ি ফেরার অন্যতম মাধ্যম হলো নৌপথ। এ উপলক্ষে নৌযানগুলোতে চলছে ঘষা-মাজা ও রঙ-কালির আঁচড়। পুরাতন ও লক্কর-ঝক্কর মার্কা নৌযান- লঞ্চগুলোও হয়ে উঠছে এখন নতুনের মতো।  

কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ডক ইয়ার্ড ঘুরে দেখা যায় ঈদকে ঘিরে পুরনো ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর লঞ্চেও চলছে রঙ-কালি আর মেরামতের কাজ। এক শ্রেণির লোভী লঞ্চ মালিকরা ঝুঁকিপূর্ণ এবং ফিটনেসবিহীন লঞ্চে কিছু মেরামত ও রঙ লাগিয়ে নৌপথে ব্যবসার জন্য উপযোগী করে তুলছেন।

সদরঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীর অপর তীরে রহমানের ডকইয়ার্ড, সাত্তার খান ডকইয়ার্ডসহ কেরানীগঞ্জের তেলঘাট থেকে মীরেরবাগ পর্যন্ত প্রায় ২৭টি ডকইয়ার্ড রয়েছে।

ডকইয়ার্ডগুলো ঘুরে জানা গেছে, ঈদকে সামনে রেখে অনেক মালিক দুই মাস আগে লঞ্চ ডকইয়ার্ডে ওঠানোর জন্য অগ্রিম টাকা দিয়ে রেখেছেন। প্রতিটি ডকইয়ার্ডেই বিভিন্ন নৌযান তৈরি, সংস্কার ও রঙের কাজ চলছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ডকইয়ার্ডেই চলছে ফিটনেসবিহীন ও ভাঙাচুরা লঞ্চ মেরামত,পুরোনো লঞ্চে রঙ-কালির আঁচড়সহ নানা ধরনের কাজ।

কয়েকটি ডর্কইয়ার্ডে দেখা যায়, নিউ সাব্বির-২, কর্ণফুলী-১,এম ভি জামাল-৩ ও ৪,এম ভি আল সায়মা-৩,এম ভি হিমু,এম ভি নিপু সালেহা-৪,এম ভি প্রিমিয়ার-১৫ নামের লঞ্চগুলোর মেরামতের কাজ চলছে।

ডক ইয়ার্ডে মেরামতের জন্য দাঁড়িয়ে থাকা এম ভি প্রিমিয়ার-১৫ এর মাস্টার মিজানুর রহমান জানান, লঞ্চের প্লেট,সামনের ফ্যান ফেটে গেছে। এছাড়া ঈদের আগে যাত্রীদের আকর্ষণে লঞ্চটি সংস্কার ও রঙ করা হচ্ছে। লঞ্চটি কয়েকদিন আগে মেরামতের জন্য আনা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে সেটি ছাড়া হবে।

তিনি জানান, ছোট আকারের এ লঞ্চটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার করতে হলে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই মাস সময় লাগবে। সামনে ঈদ তাই বেশ দ্রুত লঞ্চটি সংস্কার করা হচ্ছে।

লঞ্চটির ইঞ্জিনের সমস্যা আছে কি না? ইঞ্জিন নষ্ট হলে কে মেরামত করে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বড় ধরনের কোনো সমস্যা নেই। যা আছে তা আমারাই দেখছি। সবসময় আমরা দেখি। খুব বড় কোনো সমস্যা হলে ইঞ্জিনিয়ার দ্বারা মেরামত করা হয়।

এমভি প্রিমিয়ার-১৫ লঞ্চটির পাশেই আরেক কোম্পানির এমভি নিপু সালেহা-৪ এর ফোরম্যান মো. জাকির হোসেন লঞ্চটি সর্ম্পকে বলেন, এ লঞ্চটি পুরো সংস্কার করতে হলে ৪ থেকে ৫ মাস লাগবে। ঈদকে সামনে রেখে এটি সংস্কার করতে আনা হয়েছে। লঞ্চটির দুই পাশের টার্কিং ভেঙে গেছে, এটি সংস্কার ছাড়াও রঙ করা হবে।

লঞ্চের সংস্কার কাজ পরিদর্শনে বা ফিটনেস পরিদর্শনে বিআইডব্লিউটিএ’র পরিদর্শক আসলে তারা কি করেন জানতে চাইলে তারা বলেন, লঞ্চ মালিক বিভিন্ন তদবির করে এ বিষয়ের সমাধান করেন।

ডকইয়ার্ডের ভিতরে পার্টসের দোকানের এক কর্মকর্তা মো. রাকিব জানান, চট্টগ্রাম ও ধোলাই খাল থেকে তারা বিভিন্ন পার্টস কিনে আনেন আর বছরের বিভিন্ন সময় বিক্রি যাই হোক ঈদ আসলে বিক্রির পরিমাণ বহু গুণ বেড়ে য়ায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআইডব্লিউটিএ‘র এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ৪৩টি নৌপথে প্রায় শতাধিক লঞ্চ চলাচল করে। এগুলোর মধ্যে হাজার দশেক ভিআইপি, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কেবিন রয়েছে। এ লঞ্চগুলোতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিভিন্ন জেলার প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার লোক যাতায়াত করে।

তিনি বলেন, ঈদ মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় পঞ্চাশ হাজার। এ সময় অতিরিক্ত যাত্রীর লোভে কিছু অসাধু লঞ্চমালিক ফিটনেসহীন, চলাচলে অনুপযোগী লঞ্চ সংস্কার ও রঙ করে লঞ্চগুলোকে চাকচিক্য করে তোলেন। অনেক সময় দেখা যায় কয়েক বছর ধরে বসা লঞ্চও নৌপথে নিয়ে আসা হয়।

বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমোডর মোজাম্মেল হক এ বিষয়ে ইউএনবিকে বলেন,ঈদে মানুষ যেমন নতুন জামা-কাপড় কিনে বা পুরাতনটিকে ধুয়ে-মুছে পরিস্কার করে লঞ্চ মালিকরাও যাত্রী আকর্ষণে তা করে থাকে।

তবে তিনি বলেন, ফিটনেসবিহীন কোনো লঞ্চ ঘাটে ভিড়তে দিবেন না তারা। এটি শুধু সদরঘাট নয় সারাদেশেই তদারকি রয়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র।

বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান আরো বলেন, নতুন কোনো লঞ্চও যদি ঘাটে আসে কাগজপত্র ছাড়া সেগুলো নদীতে চলাচল করতে দেয়া হবে না।