এবারের ঈদের ছুটিতে অন্যান্য বছরের তুলনায় বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীদের সমাগম হয়েছে দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা বাগেরহাটে।

">
Pran All Time

বাগেরহাটে ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সুন্দরবনে দর্শনার্থীদের ঢল

বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তী

শুক্রবার ২৪ আগস্ট, ২০১৮ ০১:৪৫:৫৭ পিএম

বাগেরহাটে ঐতিহাসিক নিদর্শন ও সুন্দরবনে দর্শনার্থীদের ঢল

বাগেরহাট, ২৪ আগস্ট (ইউএনবি)- এবারের ঈদের ছুটিতে অন্যান্য বছরের তুলনায় বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীদের সমাগম হয়েছে দেশের অন্যতম পর্যটন এলাকা বাগেরহাটে।

শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী নারী-পুরুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে এখানের ঐতিহাসিক নিদর্শন, বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো। ঘুরে ফিরে দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা।

ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ, হয়রত পীর খানজাহান (রহঃ) মাজার, অযোধ্যা মঠ আর বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনও রয়েছে বাগেরহাটে। পাশাপাশি বারাকপুরে সুন্দরবন রিসোর্ট, দশানী শিশু পার্ক, নাগেরবাজার পৌরপার্ক, চুলকাঠি চন্দ্রমহলসহ বিভিন্ন পার্ক এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলো দর্শনার্থীরা ঘুরে দেখছেন।

সুন্দরবনের নয়নাভিরাম দৃশ্য দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। আর বাগেরহাটের ঐতিহাসিক নিদর্শন ইতিহাস সম্পর্কে মানুষের জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করতে বিনোদন কেন্দ্রগুলো সাজানো হয়েছে নানা ভাবে। 

এদিকে পর্যটকদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে সুন্দরবন বিভাগ।

পুরার্কীতি এবং বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবনের জেলা বাগেরহাটে সারাবছর জুড়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আসা যাওয়া রয়েছে। তবে বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে এখানে দর্শনার্থীদের সমাগম কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

এবার পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে বাগেরহাট জেলাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত দর্শনার্থী এখানে আসছে। ঈদের দিন থেকে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে এসব নির্দশন এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। দর্শনার্থীরা ঐতিহাসিক নির্দশন ঘুরে দেখছেন এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে বিভিন্ন রাইডে চড়ছেন আনন্দ উপভোগ করছেন।

সুন্দরবন রিসোর্টে হরিণ, কুমির, কচ্ছপ, অজগর, প্যাঁচা, বানরসহ বিভিন্ন পশুপাখির দেখা মিলেছে। সেখানে সুপার বিমান, সুপার ট্রেন, সুপার হুইল, সুপার চেয়ারসহ বিভিন্ন রাইডে শিশু থেকে নানা বয়সের নারী-পুরুষ চড়ছেন। বিশেষ করে শিশুরা পশুপাখি আর রাইডে চড়ে বেশি আনন্দ উপভোগ করছে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে শেষ দিনের ছুটি পর্যন্ত বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

সুন্দরবনের করমজল এবং কটকা অভায়রণ্য এলাকায় পর্যটকদের অনেক বেশি সমাগম দেখা গেছে। মংলা থেকে নৌযানে করে পর্যটকরা ছুটছেন সুন্দরবন ভ্রমণে। সুন্দরবনের নয়নাভিরাম দৃশ্য যেন পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

পাশাপাশি ঐতিহাসিক বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং হয়রত পীর খানজাহান (রহঃ) মাজারে দেখতেও মানুষের ঢল নেমেছে। দর্শনার্থীরা এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখে তার ইতিহাস জানার চেষ্টা করছেন।

খুলনা থেকে বাগেরহাট ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে আসা আনোয়ার হোসেন জানান, প্রায় সব সময়ই কর্মব্যস্ত দিন কাটে। ঈদের ছুটিতে স্ত্রী আর ছেলেমেয়েকে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছেন। ষাটগম্বুজ মসজিদের নির্মাণ শৈলি তাদেরকে মুগ্ধ করেছে। ৬০০ বছরের পুরাতন এই নিদর্শনের  ইতিহাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। 

পিরোজপুর থেকে আসা আফরোজা বেগম জানান, ঈদের ছুটিতে ঘুরতে এসে ষাটগম্বুজ দেখে অনেক ভাল লেগেছে। বইতে ষাটগম্বুজের ইতিহাস পড়লেও এই প্রথম নিজেরা এসে ষাটগম্বুজ প্রত্যক্ষ করলেন।

বারাকপুর সুন্দরবন রিসোর্টে আসা শিশুরা জানায়, এখানে এসে ট্রেনে, প্লেনে, দোলনায় চড়ে এবং হরিণ, বানর, অজগরসহ বিভিন্ন পশু পাখি দেখে তাদের অনেক অনেক ভাল লেগেছে। মা-বাবার সাথে এসে তারা অনেক মজা করেছে। সুন্দরভাবে কেটেছে তাদের ঈদ।

এদিকে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, গত রোজার ঈদের ছুটিতে যে পরিমাণ পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণ করেছেন তার চেয়ে এবার কোরবানির ঈদের ছুটিতে অনেক বেশি পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণে এসেছেন।

তিনি আরো জানান, ঈদের ছুটিতে শনিবার পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটকদের ভিড় থাকবে। পর্যটকদের আগমন বেশি হওয়ার কারণে তাদের নিরাপত্তা দিতে বন বিভাগ হিমশিম খাচ্ছে। নির্ধারিত রাজস্ব দিয়েই অধিকাংশ পর্যটক সুন্দরবনের করমজল এবং হারবারিয়া এলাকা ভ্রমণ করছে বলে তিনি জানান।

ষাটগম্বুজ মসজিদের ইমাম ও খতিব হেলাল উদ্দিন জানান, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সের নারী-পুরুষ ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে আসছে। এখানে এসে দর্শনার্থীরা মসজিদের ইতিহাস জানানার চেষ্টা করছেন। নির্ধারিত রাজস্ব দিয়ে দর্শনার্থীদের ষাটগম্বুজ কমপ্লেক্সে প্রবেশ করছেন।

সুন্দরবন রিসোর্টের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন জানান, দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে তারা নানাভাবে রিসোর্ট সাজিয়েছেন। বিভিন্ন রাইডের পাশাপাশি পশুপাখিও আছে এখানে। দর্শনার্থীদের বসার জন্য নানা ব্যবস্থা করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা আরো আসবে এমন প্রত্যাশা তাদের।