সরকার গঠন নিয়ে জার্মানিতে চলা কয়েকমাসের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।

">
Pran All Time

চতুর্থবারের মতো চ্যান্সেলর হচ্ছেন অ্যাঙ্গেলা মের্কেল

UNB NEWS

সোমবার ০৫ মার্চ, ২০১৮ ০১:৫০:১৩ পিএম

চতুর্থবারের মতো চ্যান্সেলর হচ্ছেন অ্যাঙ্গেলা মের্কেল

বার্লিন, ০৫ মার্চ (এপি/ইউএনবি)- সরকার গঠন নিয়ে জার্মানিতে চলা কয়েকমাসের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।

রবিবার টানা তিনবারের চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের নেতৃত্বাধীন দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) সঙ্গে মিলে জোট সরকার গঠনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি)।

ফলে টানা চতুর্থবারের মতো চ্যান্সেলর হওয়ার পথটি সুস্পষ্ট হয়ে গেলো ‘ইউরোপীয় নেত্রী’র।

গত ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্বাচনে মের্কেলের সিডিইউ ও সমমনা ক্রিশ্চিয়ান সোশ্যাল ইউনিয়ন (সিএসইউ) জোট অন্যদের তুলনায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তারা সবচেয়ে কম ভোট পায়।

এরমধ্যে আবার তাদের বিগত সরকারের অংশীদার এসপিডি নির্বাচনের পর বিরোধী দলের আসনে বসার ঘোষণা দেয়ায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয় মের্কেলের জোটের।

রবিবার এসপিডি দলের সদস্যরা মহাজোট সরকার গঠন সংক্রান্ত ভোটের ফলাফল ঘোষণা করে। এতে দেখা যায়, এসপিডির শতকরা ৬৬ শতাংশ সদস্য মহাজোট সরকার গঠনে সম্মতি প্রকাশ করেছে।

এদিকে জোট সরকার গঠনের বিপক্ষে মত প্রকাশ করে ৩৪ শতাংশ সদস্য।

সকালে রাজধানী বার্লিনে এসপিডির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নতুন মহাজোট সরকার গঠন সংক্রান্ত সাড়ে ৪ লাখ সদস্যের ভোটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, সামাজিক গণতন্ত্রী দলের ৬৬ দশমিক ২ শতাংশ সদস্য জোট সরকার গঠনে সম্মতি জানিয়েছে। বাকি ৩৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ জোট গঠনের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।

এর আগে গত শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত এসপিডি দলের ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৭২৩ জন সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়েছেন। শনিবার রাতে ভোট গণনা শেষে রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা নাগাদ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। বিদেশে বসবাসরত প্রায় ২ হাজার ৩০০ সদস্যের জন্য অনলাইন ভোটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়।

ফলাফল ঘোষণার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওলাফ শলৎস তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এসপিডি’র জন্য এটা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, ‘জোট আলোচনায় আমরা অনেক বিষয়েই আমরা একমত হতে পেরেছি। সে কারণেই মহাজোটের সিদ্ধান্ত বলবৎ রাখতে পেরেছি।’ মহাজোট চুক্তি করতে এখন আর কোনো বাধা নেই। জার্মান পার্লামেন্ট বুন্দেসতাগ মের্কেলকে ১৯তম অধিবেশনের জন্য চ্যান্সেলর নির্বাচিত করবে। আগামী ১৪ মার্চ এ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রায় সাড়ে পাঁচ মাসের এই অনিশ্চয়তার সময়ে সিডিইউ’র কিছুটা সমমনা ফ্রি ডেমোক্রেটিক পার্টি (এফডিপি) ও পরিবেশবাদী গ্রিন পার্টিকে নিয়েও সরকার গঠনের আলোচনা সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসপিডিই এগিয়ে আসায় তাদের নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছেন ইউরোপের সবচেয়ে ‘দৃঢ় অর্থনীতি’র দেশ জার্মানির ‘শীতল মস্তিষ্কের নেত্রী’ মার্কেল।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও শরণার্থী সংকট মোকাবেলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সিডিইউ’র সঙ্গে এসপিডির শীর্ষ নেতৃত্বের ভিন্নমত ছিল না। কিন্তু এসপিডির কট্টরপন্থি যুব শাখা এক্ষেত্রে ভিন্নমত দেখানোয় এসপিডি বিরোধী দলের আসনে বসার কথা জানায়।

তবে ইসলাম-মুসলিম, শরণার্থী ও অভিবাসীবিরোধী দল অল্টারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড বা জার্মানির জন্য বিকল্প (এএফডি) নির্বাচনে মোট ৫৯৮ সংসদীয় (বুন্দেসতাগ) আসনের মধ্যে ৯৪ আসনে জিতে যাওয়ায় ভয় ধরে যায় সিডিইউর পাশাপাশি এসপিডিরও। উদারনীতির এ দুই দলের নেতৃত্ব বুন্দেসতাগে এএফডির ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়ার আশঙ্কায় ভাবনায় পড়ে যায়। সেই চিন্তাভাবনা থেকেই সিদ্ধান্ত বদলের দিকে ঝুঁকে পড়ে এসপিডি।

ফলাফল জানার পর মের্কেল তার দল সিডিইউ’র টুইটার অ্যাকাউন্টে দেয়া এক বার্তায় বলেন, ‘দেশের স্বার্থে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।’

সিডিইউ’র মুখপাত্র ভোকার বৌফিয়ার এই ফলাফলের বিষয়ে বলেন, ‘এটা আমাদের দেশের জনগণ ও জার্মানির ইতিবাচক ভবিষ্যতের জন্য ভালো একটি দিন হিসেব স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

মহাজোটে যাবার পক্ষে সদস্যের ভোট দেয়ার জন্য প্রচারণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন দলের নারী নেত্রী আন্দ্রেয়া নাহলেস ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওলাফ শলৎস। অন্যদিকে, এসপিডির তরুণ অংশটির নেতা কেভিন ক্যুন্যার্ট ছিলেন এর বিপক্ষের প্রচারণায়। এ প্রচারণা চালালেও তিনি বারবারই বলেছেন পার্টির সদস্যদের যে কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নিবেন তিনি।